গর্ভবতী ভাতা বা মাতৃত্বকালীন ভাতা বলতে একজন গর্ভবতী মহিলাকে সরকার প্রদত্ত ভাতাকে বুঝানো হয়। বাংলাদেশ সরকার একজন গর্ভবতী নারীকে প্রতি মাসে একটি নিদিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সাহায্য করে থাকে। এবং এই গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার শর্ত সমূহ নিয়েই আজকের আর্টিকেল সাজানো হয়েছে।
গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার শর্ত
মূলত গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত অবলম্বন করতে হবে। এটাকে ভাতাপ্রাপ্তির যোগ্যতা হিসেবেও ধরা যায়। যাইহোক, নিম্মে সেই শর্ত গুলো বিস্তারিতভাবে জানানো হলো:
১) জীবনে ১বার পাবে এই ভাতা:
হ্যাঁ, আপনার প্রথম কিংবা ২য় সন্তানের ক্ষেত্রেই কেবল গর্ভবতী ভাতা প্রদান করা হবে। এর বেশি সন্তান জন্মদান কালীন সময়ে ভাতার আবেদন করা যাবে না। এবং মনে রাখতে হবে যে, শুধু মাত্র ১ম কিংবা ২য় সন্তানের বেলায় এই ভাতার জন্য আবেদন করা যাবে।
২) বয়সের সীমাবদ্ধতা:
গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো গর্ভধারিনী মহিলার বয়স সর্বনিম্ম ২০ বয়স হতে হবে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের বয়স ১৮ হলেও গর্ভধারণের ক্ষেত্রে যদি সন্তান গর্ভে আসার ৩-৪ মাসের সময়ে মায়ের বয়স ২০ এর নিচে হয় তবে আবেদন করতে পারবে না। তাই বলা যায় বয়স ২০ এর বেশি হতে হবে। তবে আবার বয়স কোনো ভাবে ৩৫ এর বেশি হতে পারবে না।
৩) মাসিক আয়ের সীমাবদ্ধতা:
যেহেতু এই ভাতা প্রদান কর্মসূচি কেবলমাত্র দরিদ্র ও অসহায় মহিলাদের জন্য, তাই আবেদনকারীর মাসিক ইনকাম ১৫০০ টাকার কম থাকতে হবে। যদি আবেদনকারীর মাসিক ইনকাম ১৫০০ এর নিচে হয়ে থাকে তবে ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবে না।
৪) ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার:
অতিদরিদ্র মহিলা কিংবা প্রতিবন্ধী মহিলা গর্ভধারণ করলে, তারা উক্ত ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বেশি পাবে। এর মানে এই যে, নিদিষ্ট লিমিটের মধ্যে যদি এই শর্তের কেউ থাকে তবে তাকে অন্যদের তুলনায় পূর্বে লিস্টিং করা হবে।
৫) বাসস্থান সংক্রান্ত শর্ত:
গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে আরেকটি শর্ত হলো যার জন্য আবেদন করা হবে তার শুধুমাত্র থাকার জন্য একটি বসতবাড়ি রয়েছে আর কোনো জমি নেই, অথবা অন্য কারো বাসাতে ভাড়া হিসেবে থাকছে এমন হতে হবে। যদি এই দুইটার একটাও না হয় তবে আবেদন যোগ্যতা হারাবে।
৬) অতিরিক্ত জমির প্রসঙ্গে:
আবেদনকারী মহিলার নিজের কিংবা তার পরিবারের কোনো চাষকৃত জমি (যেখানে কৃষি কাজ করা যায়) কিংবা মৎস চাষ করার জন্য পুকুর নেই এমন অবস্থান হতে হবে। যদি থেকে থাকে তবে সে নিজের অলসতার কারণে নিজেদের ভরণপোষণ করতে পারে না এই মর্মে উক্ত শর্তটি প্রদান করা হয়েছে।
৭) নির্ধারিত সময়:
যেহেতু প্রতি বছরের জুন-জুলাই মাসের বাজেটে আগামী বছরের খরচ নির্ধারিত হয়। তাই গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার জন্য একজন মহিলাকে উক্ত বছরের জুলাই মাসে অবশ্যই গর্ভবতী অবস্থান থাকতে হবে। অন্যথায় আবেদন সংক্রান্ত কার্যক্রম হবে না।
৮) সন্তান সংক্রান্ত কন্ডিশন:
যদি এমন হয় যে ১ম সন্তান কিংবা ২ সন্তান গর্ভাবস্থান থাকাকালীন মারা গেছে কিংবা ২য় সন্তান জন্মের ২ বছরের মধ্যেই মারা গিয়েছে, সেক্ষেত্রে ৩য় গর্ভধারণ অবস্থায় ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবে।
৯) ভাতা প্রদানের সময়কাল:
একজন মহিলা পুরো জীবনে গর্ভবতী ভাতা কেবল ১ বার পাবেন এবং সেটি পুরো ২ বছরের জন্য। ২ বছর তথা ৪৮ মাস ভাতা পাবেন।
১০) বিশেষ কন্ডিশন:
যদি কোনো কারণে সন্তানের মৃত্যু হয় কিংবা গর্ভপাতের কারণে নিদিষ্ট চক্র অসম্পূর্ণ থাকে তবে তিনি পুনরায় গর্ভবতী হলে পরবতী ২ বছর অব্দি ভাতা পাবেন। তবে এক্ষেত্রে কন্ডিশন হলো ভাতাভোগীর অন্যান্য সকল যোগ্যতা সয়ংসম্পূর্ণ থাকতে হবে।
উপরে যে ১০টি শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে ১, ২, ৭ সহ মোট ৫টি শর্ত পূরণ হলেই একজন মা গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
গর্ভবতী ভাতা কত টাকা?
বাংলাদেশ সরকার অনুযায়ী, বর্তমানে গর্ভবতী ভাতা প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে দেয়া হয়। এবং প্রতি ৬ মাস পরপর গর্ভবতী ভাতা প্রদান করা হয়। যেহেতু এই ভাতা ২ বছর অব্দি দেয়া হয় তাই মোট ২৪ মাসে ৪বার ভাতার টাকা ভাতাভোগীর একাউন্টে দেয়া হয়।
এক্ষেত্রে হিসেব করলে হয়,
- প্রতি মাসে ভাতার পরিমাণ ৮০০ টাকা
- প্রতি ৪ মাস পর পর ভাতাভোগীকে পাঠানো হবে ৩২০০ টাকা
- এবং দুই বছরে মোট টাকা দেয়া হবে ১৯২০০ টাকা।
গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার নিয়ম
গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার জন্য উপরে উল্লেখ্যিত শর্তগুলো অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের সহায়তায় অনলাইন কিংবা সরসরি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
আবেদনে চুড়ান্ত সিলেক্টশনের পর ভাতাভোগীর নাম লিস্টিং করা হবে। তারপর থেকেই ভাতা দেয়া শুরু হবে। আপনি যদি অনলাইনে গর্ভবতী ভাতা আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তবে উক্ত লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে তা দেখে নিন।
চুড়ান্ত মন্তব্য
আশা করি উক্ত আর্টিকেলের মাধ্যমে গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার শর্ত গুলো জানতে পেরেছেন। আপনি যদি গর্ভবতী ভাতার জন্য আবেদন করতে চান তবে এটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন যে আপনি এই শর্ত গুলো পূরণ করছেন এবং এটির আলোকেই আবেদন সম্পন্ন করেছেন। ভাতা সংক্রান্ত যেকোনো আপডেটের জন্য অনুসরণ করুন প্রতিবন্ধী বিডি ডট কম।

প্রতিবন্ধী বিডি একটি সেবামূলক ওয়েবসাইট যেখানে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শ্রেনীর নাগরিকদের প্রদানকৃত ভাতা ও অন্যান্য সেবা সমূহ নিয়ে তথ্য প্রদান করে থাকে। এছাড়াও সরকার দ্বারা প্রদানকৃত অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ সুবিধা নিয়েও জানানো হয়ে থাকে। তবে এটা কোনো সরকারি ওয়েবসাইট নয়।