প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দিবে সমাজসেবা অধিদপ্তর; জানুন বিস্তারিত 

আপনি কি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা সুবর্ণ নাগরিক? অথবা আপনার পরিবারে কেউ কি প্রতিবন্ধী? আপনি কি ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে চান কিন্তু টাকার অভাবে তা করতে পারছেন না? তাহলে আজকের এই লেখাটি আপনার জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। 

বাংলাদেশে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার ছোট ব্যবসা শুরু করতে চান, কিন্তু পুঁজির অভাবে তা সম্ভব হয় না। সমাজসেবা অধিদপ্তর বর্তমানে প্রতিবন্ধী ও দগ্ধ ব্যক্তিদের জন্য বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। এই ঋণের মাধ্যমে তারা নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারেন। 

এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত জানবো—কে কীভাবে এই ঋণ পাবেন, কী কী শর্ত মানতে হবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে, এবং কীভাবে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ কত টাকা পাওয়া যাবে?

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ পেতে পারেন। যদি প্রথমবার ঋণ নিয়ে যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়, তাহলে পরবর্তীতে আরও একাধিকবার ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ পরিশোধ পদ্ধতি

এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ৫% সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতা ২০টি কিস্তিতে সমপরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে।

যেমন:

  • যদি আপনি ৫০,০০০ টাকা ঋণ নেন, তাহলে ৫% সার্ভিস চার্জ হবে ২,৫০০ টাকা।
  • সার্ভিস চার্জসহ মোট টাকা পরিশোধ করতে হবে ৫০,০০০ + ২,৫০০ = ৫২,৫০০ টাকা।
  • এই টাকা ২০ কিস্তিতে ভাগ হবে, অর্থাৎ প্রতি কিস্তিতে ২,৬২৫ টাকা দিতে হবে।
  • প্রথম দুই মাস কোনো কিস্তি দিতে হবে না, এরপর প্রতি মাসে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের টাকা কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে?

এই ঋণ মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য দেওয়া হয়। আপনি যদি গরু পালনের জন্য ঋণ নেন, তবে দুই বছর পরে এককালীন ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবেন, তবে সেক্ষেত্রে উপজেলা কমিটির অনুমোদন লাগবে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?

১. সুবর্ণ নাগরিক কার্ডের সত্যায়িত ফটোকপি 

2. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধনের কপি 

3. উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বরাবর নির্ধারিত ফর্মে আবেদন 

4. জামানত দরকার নেই, তবে একজন জামিনদার লাগবে (যেমন- ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি)

প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ও শর্তাবলী

এই ঋণের জন্য আবেদন করতে হলে কিছু শর্ত মানতে হবে:

  • আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা পৌর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা তার পরিবারের বার্ষিক গড় আয় ১,০০,০০০ টাকার বেশি হওয়া যাবে না।
  • নাম অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত হতে হবে।
  • ঋণ গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
  • দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন।

কোথায় আবেদন করবেন?

যারা এই ঋণ নিতে চান, তারা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে পারেন। এই ফরম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাওয়া যাবে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের আবেদন প্রক্রিয়া

১. প্রথমে সমাজসেবা অফিস থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করুন। 

2. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ফরম পূরণ করে জমা দিন। 

3. সমাজসেবা অফিসার যাচাই-বাছাই করবেন। 

4. ইউনিয়ন সমাজকর্মী সুপারিশ করলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবেদনটি কমিটির কাছে পাঠাবেন। 

5. কমিটি অনুমোদন দিলে নির্ধারিত পরিমাণ ঋণ অনুমোদন হবে।

ঋণ পাওয়ার পর কী করবেন?

  • উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে চেক বা নগদ টাকার মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হবে।
  • টাকা নেওয়ার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন যে সঠিক পরিমাণ টাকা পেয়েছেন এবং রেজিস্টারে এন্ট্রি আছে কি না।
  • ঋণ পরিশোধ হয়ে গেলে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ঋণ পরিশোধের প্রমাণপত্র সংগ্রহ করুন।

চুড়ান্ত মন্তব্য 

এই ঋণ কর্মসূচি প্রতিবন্ধী ও দগ্ধ ব্যক্তিদের জন্য একটি বড় সুযোগ, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে। যদি আপনার পরিবারের কেউ এই সুবিধার আওতায় পড়েন, তাহলে দেরি না করে দ্রুত আবেদন করুন। সঠিকভাবে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করলে ভবিষ্যতে আরও বেশি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

Leave a Comment