সুপ্রিয় পাঠক পাঠিকাবৃন্দ, প্রতিবন্ধী বিডি ডট কম এর পক্ষ থেকে একরাশ প্রিতি ও ভালবাসা গ্রহণ করবেন। আজ আমরা সমাজসেবার প্রতিবন্ধী ঋন সম্পর্কে আলোচনা করব। আমরা কম বেশি অনেকেই জানি যে, বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে বিভিন্য সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনস্থ্য সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রতিবন্ধীদের সুদমুক্ত ঋণ দেয়।
প্রতি অর্থ বছর একবার প্রতিবন্ধী ঋণের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমাজসেবা কার্যালয়গুলির অনুকুলে অর্থ বরাদ্দ করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। তাই প্রতি বছর একবার প্রতিবন্ধীদের মাঝে সুদমুক্ত ঋণ বিরতণ করে স্থানিয় সমাজসেবা কার্যালয়। আপনারা যারা ২০২৫ সালে সুদমুক্ত প্রতিবন্ধী ঋণ নিতে চান তাদের জন্যই এই পোস্ট।
সমাজসেবার সুদমুক্ত প্রতিবন্ধী ঋণ
বাংলাদেমের বর্তমান আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধীরা সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে চরম অবহেলিত। এখনও আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের নিতিবাচক দৃষ্ট্রিতে দেখা হয়। যদিও সরকারের বিভিন্য কার্যক্রম এবং শিক্ষার প্রসারের ফলে সমাজে প্রতিবন্ধীদের প্রতি দৃষ্ট্রিভঙ্গির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
একজন প্রতিবন্ধী কোন অফিস বা কল কারখানায় চাকরির জন্য গেলে অফিস বা কল কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যাঙ্গ করে বলে “তুমি প্রতিবন্ধী মানুষ তুমি কি চাকরি করবে?, তোমাকে চাকরি দিলে আমাকে নিয়ে মানুষ হাসাহাসি করবে। তাই আমরা তোমাকে চাকরি দিতে পারব না”।
এমন ব্যস্তবতায় প্রতিবন্ধীদের জন্য কোন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশ সরকার সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা নির্ধারণ করেছে বটে। কিন্তু কোটার পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই প্রচুর শিক্ষিত প্রতিবন্ধীরা বেকারই রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধীদের আত্ব নির্ভরশিল করে গড়ে তুলতে বিভিন্য কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এসকল কর্মসূচীর মাঝে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের সুদমুক্ত ঋণ প্রদান কর্মসূচী অন্যতম। এই ঋণ কর্মসূচীর আওতায় একজন প্রতিবন্ধী ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারে।
এই ঋণ গ্রহণ করলে কোন প্রকার সুদ দিতে হয় না। তবে ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হয়। সমাজসেবার সুদমুক্ত প্রতিবন্ধী ঋণ গ্রহণ করতে চাইলে প্রথমে নির্ধারিত ফরমে ঋণ গ্রহণের জন্য আবেদন করতে হবে। ২০২৫ সালের প্রতিবন্ধী ঋণ দেয়া শুরু হয়েছে। তাই যারা ঋণ গ্রহণ করতে চান আপনাদের অতি দ্রæত আবেদন করতে হবে।
প্রতিটি জেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে। তাই যারা প্রতিবন্ধী ঋন গ্রহণ করতে চান। আপনাদের অতি দ্রæত আবেদন করতে হবে। প্রতিবন্ধী ঋন পাবার জন্য যেহেতু অনেকেই আবেদন করবে। তাই আপনি যদি দেরি করে আবেদন করেন তবে আপনার ঋণ পাবার সম্ভবনা কমে যাবে। তাই ঋণ নিতে চাইলে অতি দ্রæত আবেদন করুন।
সমাজসেবার প্রতিবন্ধী ঋণ কিভাবে পাওয়া যায়। কিভাবে ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে সে সম্পর্কে আমাদের ওয়েবসাইটে একটি বিস্তারিত তথ্য সমৃদ্ধ পোস্ট আছে। আপনি চাইলে সেই পোস্টটি পড়তে পারেন। পোস্টটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
সমাজসেবার প্রতিবন্ধী ঋণের কিস্তি কত দিন পর শুরু হয়
সমাজসেবা থেকে ঋণ গ্রহণের চার মাস পর থেকে ঋণের কিস্তি শুরু হবে। মনে করা যাক আপনি জানুয়ারি মাসে প্রতিবন্ধী ঋণ গ্রহণ করেছেন। তাহলে এপ্রিল মাস থেকে ঋণের কিস্তি গ্রহণ শুরু হবে। সরকার চায় ঋণের টাকা খাটিয়ে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উপার্জন শুরু করার পর কিস্তি দেয়া শুরু করুক। তাই চার মাস সময় দেয়া হয়। অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এত সময় দেয় বলে আমার জানা নেই।
কত টাকা পর্যন্ত সমাজসেবার প্রতিবন্ধী ঋণ পাওয়া যায়
বাংলাদেশ সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ১০ হাজার টাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে আপনি যদি প্রথম বার ঋণ গ্রহণ করতে চান তবে প্রথমবার ৫০ হাজার টাকা পাবার সম্ভবনা কম। প্রথমে ১০ বা ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়।
তারপর সঠিকভাবে কিস্তি পরিশোধ করলে এবং ঋণ গ্রহিতা যদি দৃশ্যমান উন্নতি করতে পারে তবে পরবর্তিতে তাকে প্রথম বারের চেয়ে বেশি পরিমান অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়া হতে পারে।
সমাজসেবার প্রতিবন্ধী ঋণের কিস্তি কোথায় জমা দিতে হয়
সমাজসেবার প্রতিবন্ধী ঋণ গ্রহণের পর কোথায় গিয়ে ঋণের কিস্তি দিতে হয় এই তথ্য আমাদের কাছে অনেকেই জানতে চান। সমাজসেবার ঋণ গ্রহণের পর যখন আপনার কিস্তি দেয়ার সময় শুরু হবে। তখন আপনি আপনার ইউনিয়ন পরিষদ অফিস/পৌড়সভা অফিস/সিটি কর্পরেশন অফিসে গিয়ে ইউনিয়ন/ওয়ার্ড সমাজ কর্মির কাছে প্রতিবন্ধী ঋণের কিস্তি জমা দিতে পারবেন।
তবে আপনি যদি তিব্র প্রতিবন্ধী কিংবা গুরুতর অসুস্থ্য হন তবে ইউনিয়ন/ওয়ার্ড সমাজ কর্মির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমেও ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। তবে এটা অফিসিয়াল কোন নিয়ম নয়। এভাবে ঋনের কিস্তির টাকা না দেয়াই ভাল। কারণ কিস্তি দেয়ার পর পাস বইতে তা নথিভুক্ত করতে হয়। কিন্তু বিকাশ নগদে ঋণের টাকা দিলে পাস বইতে তা নথিভুক্ত হবে না।
তাই আমরা এভাবে ঋণের কিস্তির টাকা দিতে নিরুৎসাহিত করি। আপনাদের একটু কষ্ট হলেও সমাজ কর্মির সাথে দেখা করে তার হাতে ঋণের কিস্তির টাকা দেবেন। এবং আপনার নিকটে থাকা পাস বইতে তা নথিভুক্ত করে নেবেন। প্রিয় পাঠক পাঠিকাবৃন্দ, আজকের মত এ পর্যন্তই সকলে ভাল থাকবেন লেখাটি পড়ার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

প্রতিবন্ধী বিডি একটি সেবামূলক ওয়েবসাইট যেখানে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শ্রেনীর নাগরিকদের প্রদানকৃত ভাতা ও অন্যান্য সেবা সমূহ নিয়ে তথ্য প্রদান করে থাকে। এছাড়াও সরকার দ্বারা প্রদানকৃত অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ সুবিধা নিয়েও জানানো হয়ে থাকে। তবে এটা কোনো সরকারি ওয়েবসাইট নয়।