মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কত সালে চালু হয়? ভাতার পরিমাণ কত টাকা

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতা কার্যক্রম ১৯৯৬ সালে শুরু করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই ভাতা কার্যক্রম চালু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাতার পরিমাণ ৩০০ টাকা থাকলেও পরবর্তীতে তা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু সংক্রান্ত ইতিহাস এবং বর্তমানে ভাতা কত টাকা ও প্রদানের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শেষ অব্দি পড়ুন।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কত সালে চালু হয়

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রথমবারের মতো ৩০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে সকল মুক্তিযোদ্ধার জন্য এই ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ভাতার পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু হওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে মুক্তিযোদ্ধারা ভাতার টাকা পেয়ে আসছেন। বর্তমানে ভাতার টাকা জিটুপি পদ্ধতিতে সবার মোবাইল ফোনে প্রেরণ করা হচ্ছে। ফলে, ঘরে বসে ভাতার টাকা পাচ্ছেন সবাই এবং উক্ত টাকা যখন ইচ্ছে বের করতে পারছেন।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কত টাকা

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সর্বশেষ ১২ হাজার টাকা থাকলেও তা বৃদ্ধি করে বর্তমানে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, একজন মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা তা মোবাইল ফোনে পাচ্ছেন। এই টাকাটি তাদের দেয়া বিকাশ/নগদ বা এজেন্ট ব্যাংকিং মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে প্রেরণ করা হচ্ছে।

শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার পরিমাণ ছিলো ৩০০ টাকা এবং তা শুধুমাত্র দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছিলো। যা পরিবর্তিত হতে হতে বর্তমানে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে এবং প্রতি মাসে সকল মুক্তিযোদ্ধা তাদের দেয়া মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম বা এজেন্ট ব্যাংকিং মাধ্যমে টাকা পাচ্ছেন।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৩০ হাজার ২০২৪

শহিদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৩০,০০০ টাকা করা হয়েছে। সকল মুক্তিযোদ্ধা এই হারে ভাতা পাবেন না। ক্যাটাগরিভেদে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার পরিমাণ কমবেশি হয়ে থাকে।

সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমানে জিটুপি পদ্ধতিতে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। ভাতা নিবন্ধন করার সময় প্রদান করা মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম বা এজেন্ট ব্যাংকিং মাধ্যমে এই ভাতার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রণয়ন করা বাজেট সংক্রান্ত তথ্য নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২০২৪-২০২৫

মুক্তিযোদ্ধাগণের রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতাভোগীর সংখ্যা বিগত ১,৯২,৫০০ জন হতে ১,৯৪,০০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার পরিমাণ ১২,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০,০০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। নতুন আঙ্গিকে চারটি ক্যাটাগরিতে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ টাকা ও ন্যূনতম ২০,০০০ টাকা এবং শহিদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৩০,০০০ টাকা করা হয়েছে।

খেতাবপ্রাপ্ত ৫৮৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে খেতাব অনুসারে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতা ৫০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও আত্ম-কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ৪২.২৫ কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান তহবিল থেকে ৪৭,৯২৯ জন মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্যকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়েছে। অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ১০,৫৫৭টি বীর নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ভারতের মিত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ত্রিশটি পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া G2P প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা দ্রুত সময়ে প্রদানের লক্ষ্যে ১,৯৪,০০০ জন ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধা/সুবিধাভোগীর MIS প্রণয়ন করা হয়েছে।

বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মাসিক ভাতা কত?

বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা। এছাড়া, ক্যাটাগরিভেদে ৪৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার মাঝে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে তার ভাতা কে পাবে?

মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে তার পরিবারের সদস্যরা ভাতার টাকা পাবে। মুক্তিযোদ্ধার দেয়া মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম বা এজেন্ট ব্যাংকিং মাধ্যমে এই টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে।

সারকথা

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কত সালে চালু হয়, মুক্তিযোদ্ধা ভাতার পরিমাণ কত টাকা এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সংক্রান্ত আপডেট শেয়ার করা হয়েছে এই পোস্টে। এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ক্যাটাগরি ভিজিট করলে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য জানতে পারবেন।

Leave a Comment