বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা পান। আগে এই ভাতা পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ বা সমাজসেবা অফিসে যেতে হতো, কিন্তু এখন ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যায়। আজ আমরা জানবো ২০২৫ সালে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করতে কি কি লাগে, যোগ্যতা এবং আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে।
প্রতিবন্ধী ভাতা কী?
মূলতপ্রতিবন্ধী ভাতা হলো সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের দেওয়া একটি আর্থিক সহায়তা। এটি মূলত সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল এবং শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য প্রদান করা হয়।
প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করার যোগ্যতা
ভাতাটি প্রতিবন্ধীদের দেয়া হয় মানে এই না যে, যেকেউ এই প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়, যেমন:
১) বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
২) নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হতে হবে। অর্থাৎ, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র বা সুবর্ণ নাগরিক কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
৩) মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৩৬,০০০ টাকার নিচে হতে হবে।
৪) সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী হলে এই ভাতা পাওয়া যাবে না।
৫) যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার অনুদান পেলে এই ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা হারাবে।
৬) ৬ বছরের বেশি বয়স হতে হবে।
এই ৬টি শর্ত পূরণ করার মাধ্যমে কেউ যদি ভাতা আবেদন করতে চায় তবে সে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবে। এবার এক নজরে দেখে নেয়া যাক প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে।
অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করার নিয়ম
প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করার জন্য এখন আর ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় দৌড়াদৌড়ি করার প্রয়োজন নেই। এখন ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে আবেদন করা যায়। নিম্মে ধাপে ধাপে আবেদন করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হলো:
১) সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান।
২) প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন। এখানে জাতীয় পরিচয়পত্র (১৮ বছরের বেশি হলে) বা জন্ম নিবন্ধন (১৮ বছরের নিচে হলে) ও প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্রের তথ্য দিতে হবে।
৩) একটি চালু মোবাইল নম্বর প্রদান করুন, যেখানে নগদ বা বিকাশ একাউন্ট খোলা আছে। কেননা এই নাম্বারেই টাকা পাঠানো হবে।
৪) আবেদন ফরম ডাউনলোড করুন এবং প্রিন্ট করে নিন।
৫) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা পৌরসভা কাউন্সিলরের স্বাক্ষর নিন।
৬) সমাজসেবা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র জমা দিন।
৭) আবেদন গৃহীত হলে যাচাই-বাছাইয়ের পর মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে।
খুব অল্প কিছু কথার মধ্যে এই হলো ভাতার জন্য আবেদন করার নিয়ম। আর যদি প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত ভাবে জানতে চান তবে এখানে ক্লিক করে বিস্তারিত দেখে নিন।
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করতে কি কি লাগে?
এবার আসুন জেনে নেই প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে কি কি ডকুমেন্টসের প্রয়োজন হবে। আবেদন করার পূর্বেই এই সকল ডকুমেন্টস গুলো গুছিয়ে ফেলা উত্তম। তাহলে নিম্নলিখিত কাগজপত্র গুলো দেখে নিন যেগুলো প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে লাগবে:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (১৮ বছরের বেশি হলে)।
- জন্ম নিবন্ধন (১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য)।
- প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র বা সুবর্ণ নাগরিক কার্ড।
- নগদ বা বিকাশ একাউন্ট থাকা একটি মোবাইল নম্বর।
- স্থানীয় চেয়ারম্যান বা পৌর কাউন্সিলরের সুপারিশসহ স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র।
প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার পদ্ধতি
যদি আপনার আবেদন গ্রহণ করা হয়, তবে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) একাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। অর্থাৎ, এখন আর হাতে হাতে টাকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই, যা দুর্নীতি ও হয়রানি কমাবে।
আবেদন করতে গিয়ে সাধারণ ভুল এবং করণীয়
অনলাইনে আবেদন করার সময় কিছু ভুল দেখা যায়, যা এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন: ভুল তথ্য প্রদান করা হলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করা জরুরি, কারণ পরবর্তী সময়ে এটি লাগতে পারে। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার সুপারিশ নিতে ভুলবেন না।
শেষ কথা
২০২৫ সালে প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে সহজ এবং স্বচ্ছ হয়েছে। এখন আর কোথাও ঘুরতে হবে না, বাড়িতে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে আবেদন করা যাবে। শুধু সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলেই হবে।
আশা করি, প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করতে কি কি লাগে এই বিষয়ে ক্লিয়ার হওয়ার জন্য এই আর্টিকেলের তথ্য আপনার জন্য উপকারী হবে। প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে কমেন্টে জানান।

প্রতিবন্ধী বিডি একটি সেবামূলক ওয়েবসাইট যেখানে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শ্রেনীর নাগরিকদের প্রদানকৃত ভাতা ও অন্যান্য সেবা সমূহ নিয়ে তথ্য প্রদান করে থাকে। এছাড়াও সরকার দ্বারা প্রদানকৃত অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ সুবিধা নিয়েও জানানো হয়ে থাকে। তবে এটা কোনো সরকারি ওয়েবসাইট নয়।