গ্রাম পুলিশ বাহিনী জাতীয়করণে এক ধাপ অগ্রগতি

বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশের অনেকদিন ধরে প্রত্যাশা “গ্রাম পুলিশের জাতীয়করণ” করার ব্যাপারে এসেছে নতুন এক আশার আলো। স্থানীয় সরকার বিভাগ গ্রাম পুলিশ নতুন বেতন বৃদ্ধির সুখবর দিয়েছেন। সম্প্রতি সময়ে আয়োজিত এক সেমিনারে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর পক্ষে একটি রিট পিটিশনের আপডেট ও জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবির আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। 

এই বিষয়ে বিস্তারিত থাকছে পুরো আর্টিকেল জুড়ে। থাকবে ভেতরের অনেক তথ্য যা হয়তো ছিল এতদিন অব্দি আপনার অজানা। তাই শেষ অব্দি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। 

গ্রাম পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘ সংগ্রাম

গ্রাম পুলিশ বাহিনী বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু তাদের বেতন-ভাতা এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা রয়েছে। তারা জাতীয় বেতন স্কেল থেকে বঞ্চিত ছিলেন, যা তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছিল। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যারিস্টার পল্লব স্যার দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০১৭ সালে তিনি গ্রাম পুলিশ বাহিনীর পক্ষে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন (মামলা নং ১৭২৫৮/১৭)। এই মামলার মাধ্যমে তিনি গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলে ধরেন। এই মামলাটি হাইকোর্টে জয়লাভ করার পরও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে, যা সুপ্রিম কোর্টে এখনও চলমান।

ব্যারিস্টার পল্লব স্যারের অক্লান্ত পরিশ্রম

ব্যারিস্টার পল্লব স্যার গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি তাদের অভিভাবকও। তিনি তাদের সমস্যা নিজের সমস্যা হিসেবে নিয়েছেন এবং রাতদিন পরিশ্রম করে চলেছেন। তিনি গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সন্তানের মতো দেখেন এবং তাদের মঙ্গলের জন্য সর্বদা চিন্তা করেন।

মামলাটি আপিল বিভাগে যাওয়ার পর সিনিয়র আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যারিস্টার পল্লব স্যার নিজেই এই দায়িত্ব নেন এবং সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতা চান। তিনি গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পাশে থেকে তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ গ্রাম পুলিশ নতুন বেতন বৃদ্ধির সুখবর

ব্যারিস্টার পল্লব এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে যা  গ্রাম পুলিশ বাহিনীর মামলার জন্য একটি বড় সাফল্য। কেননা, এখন থেকে তিনি নিজেই মামলার শুনানি করতে পারবেন, যা আগে সম্ভব ছিল না। এই অর্জনের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।

ব্যারিস্টার পল্লব বলেছেন, “এই মামলাটি আমার জীবনের একটি বড় স্বপ্ন। ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য এবং তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমি সর্বদা চেষ্টা করে যাব।” তিনি আরও বলেন, “এই মামলাটি শুধু একটি আইনি লড়াই নয়, এটি মানুষের অধিকারের লড়াই।”

গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি বার্তা

গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার পল্লব বলেন, “আপনারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। ইনশাল্লাহ খুব শীঘ্রই আমরা একটি ভালো ফলাফল পাব। আপনাদের সকলের প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনারা দেশের জন্য কাজ করে যান, দেশকে ভালোবাসুন এবং নিরাপদে থাকুন।” তিনি আরও বলেন, “এই মামলাটি শুধু আমার একার নয়, এটি আমাদের সবার। আমরা একসাথে এই লড়াই জিতব ইনশাল্লাহ।”

বর্তমানে গ্রাম পুলিশের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা

শরিয়তপুর থেকে গ্রাম পুলিশ মোঃ বিল্লাল হোসেন জানান, “বর্তমানে একজন গ্রাম পুলিশের মাসিক বেতন ৬,৫০০ টাকা। এর মধ্যে ৩,২৫০ টাকা দেয়া হয় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে। বাকি ৩,২৫০ টাকা দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। পাশাপাশি থানা থেকে দেয়া হয় ১২০০ টাকা।”

তিনি আরো জানান, “মোট ৭,৭০০ টাকার পাশাপাশি রেশন হিসেবে দেয়া হয় কেবল ১ বস্তা চাল। যার বিপরীতে তাদের কাজ করতে হয় দিনে ইউনিয়ন পরিষদে এবং রাতে পুলিশের সহায়ক হিসেবে।” এমতাবস্থায় জীবন যাপনের মান নিয়ে খুব চিন্তিত থাকতে হয় গ্রাম পুলিশদের। 

চুড়ান্ত মন্তব্য

গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জাতীয়করণের সংগ্রাম শুধু একটি আইনি লড়াই নয়, এটি মানুষের অধিকার এবং ন্যায়বিচারের লড়াই। এক্ষেত্রে ব্যারিস্টার পল্লবের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর পথ তৈরি হয়েছে। গ্রাম পুলিশরা আশা করছে, খুব শীঘ্রই এই মামলার একটি ইতিবাচক ফলাফল আসবে এবং গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাবেন।

Visited 1,563 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top